সুশান্ত সিং রাজপুত - অকালে ঝড়ে পড়া এক নক্ষত্র!!



২০০৮, 'কিস দেশ মে হে মেরা দিল' ধারাবাহিক দিয়ে অভিনয় জগতে পা রাখা, অতঃপর 'পবিত্র রিশতা', 'ঝলক দিখলা যা (২,৪)' এর মাধ্যমে পরিচিতি লাভের পর 'কায় পো ছে' (২০১৩)-র মতো ব্যাবসা-সফল মুভি দিয়ে বলিউডে অভিষেক! প্রথম মুভিতেই ক্রিটিক্সদেরর মন জয়, দর্শকের কাছ থেকেও সবুজ বাতি! সময় যেন স্বপ্নের মতো কাটছিলো সুশান্ত রাজপুতের। এখন যেন শুধু সাফল্যের সর্বোচ্চ শৃঙ্গের অপেক্ষা। 

২১ জানুয়ারি, ১৯৮৬। বিহারের ছোট্ট শহর পাটনা-তে জন্ম নেন সুশান্ত সিং রাজপুত। ওখানেই বড় হয়ে ওঠা। ছোট বেলা থেকেই পড়াশোনায় ভালো, ক্লাসের ফার্স্ট বয় ছিলেন প্রায় সময়ই। পদার্থবিজ্ঞান-র প্রতি ঝোঁক ছিল তার, উক্ত বিষয়ে জাতীয় অলিম্পিয়াডে জয়ীও হয়েছিলেন। তাই তার বাবা চাইতেন, ছেলে যেন ইঞ্জিনিয়ার হয়। বাবার ইচ্ছায় ডিসিইই-র প্রবেশিকায় অংশও নেন। ঐ পরীক্ষায় সপ্তম হন সুশান্ত এবং ডিসিই'তে চান্স পান। চার বছরের কোর্স, তিন বছরের মাথায় ছেড়ে দেন। কারন? তার স্বপ্ন, তিনি অভিনেতা হবেন।



সাফল্য যে আসে নি, তা নয় বটে। তবে পথে অনেক বাঁধা পার হতে হয়েছে। ভেঙে পড়েছেন, নিজেকে গড়েছেন, উঠে দাড়িয়েছেন। তবু স্বপ্ন থামেনি। "শুদ্ধ দেশী রোম্যান্স" (২০১৩) ও "ডিটেকটিভ ব্যোমকেশ বক্সী" (২০১৫)-র মাধ্যমে বলিউডে নিজেকে লীড এক্টর হিসেবে গড়ে তুললেন তিনি। তাছাড়াও 'পিকে' (২০১৪)-র মতো মুভিতে ছোট ছোট রোলে ছাপ রেখে চলেছিলেন। বলিউডকে উপহার দিলেন দারুণ কিছু পার্ফরম্যান্স। বদলে বলিউডও কৃপণতা করে নি।

'এম. এস. ধোনিঃ দ্য আনটোল্ড স্টোরি' (২০১৬) আসল সুশান্তের জন্য বড় সুযোগ হয়ে। সেই সুযোগ কি আর হাতছাড়া করা যায়! সুশান্ত ভালো ভাবেই কাজে লাগালেন সুযোগটা। রাতারাতি সাড়া পেলেন, ক্রিটিকসরা তো তার প্রশংসায় পঞ্চমুখ, জয় করলেন লাখো দর্শকের মন। 


এরপর তাকে আর ফিরে তাকাতে হয় নি। তা ফিল্ম ফ্লপই হোক বা ব্লকবাস্টার, তিনি প্রশংসা কুড়োচ্ছেন। তার অভিনিত "কেদারনাথ" ও "ছিছোড়ে" যেমন প্রশংসা কুড়িয়েছে, তেমনি বানিজ্যিকভাবেও সফল হয়েছে। ধীরে ধীরে স্টার থেকে সুপারস্টারে পরিণত হতে থাকলেন তিনি। কিন্তু তখনি যেন সব কিছু উলট পালট হয়ে গেলো। 

কৈশরেই মা'কে হারিয়েছেন। মায়ের শেষ ইচ্ছা, ছেলেকে দেখবেন। বোর্ড পরীক্ষার ফলে সম্ভব হলো না। সেই ট্রমা কখনো কাটিয়ে উঠতে পারেন নি সুশান্ত। তার সাথে যুক্ত হলো বলিউডের বিচ্ছিরি নেপোটিজম। সহ্য না করতে পেরে করে বসলেন বিতর্কিত মন্তব্য। পরোক্ষভাবে, দোষ চাপালেন বড় বড় স্টারদের উপর। যা বলিউডের সুলতান খ্যাত "সালমান খান" এর একদম পছন্দ হলো না। ফলাফল, সুশান্তকে বয়কট করলো বলিউডের প্রায় সব বড় বড় প্রোডাকশন ও প্রোডিউসারেরা।

সুশান্তের বলিউড ক্যারিয়ার শেষের পথে, মা হারানোর ট্রমা, সবকিছু যেন পুড়ে খাচ্ছিল তাকে। যার ফলে ডিপ্রেশনে চলে যান তিনি। ফিরে আসার চেষ্টাও করেন, থেরাপি নেন। কিন্তু কিছুই হচ্ছিল না। তার কাছে পৃথিবীর মায়া যেন তুচ্ছ হয়ে উঠল। জীবন যুদ্ধে হার মানলেন তিনি।

অবশেষে, গত ১৪ই জুন, ২০২০, তার নিজ বাড়িতে তার মৃতদেহ ঝুলন্ত অবস্থায় উদ্ধার করা হয়।


Post a comment

0 Comments